ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) দুই বছরের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল কোকোর দাম। গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ৫ হাজার ২৬ ডলারে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও আনাদোলু এজেন্সি।
ইন্ডাস্ট্রি নিউজলেটার কোকোরাডার এক নোটে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী কোকোর সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে।
চাহিদা কমার কারণে গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের বাজারে কোকোর দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল। গত শুক্রবার তা ১ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৬৮৭ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে কোকোর দাম ২০২৬ সালের প্রথম ১২ দিনে ১০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অনুকূল আবহাওয়ায় সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা এ সময় কোকোর দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে কোকোর বাজারে বড় বার্ষিক দরপতন দেখা দিয়েছে। গত বছর পণ্যটির দাম কমেছে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। গত বছরের শুরুতে পশ্চিম আফ্রিকায় খরার আশঙ্কায় দাম বেড়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতির পূর্বাভাসে তা কমে আসে। ফলে ২০২৫ সালের শেষ দিকে কোকোর দাম দাঁড়ায় টনপ্রতি ৬ হাজার ৫৬ ডলারে।
বিশ্বের শীর্ষ চকোলেট ও কোকো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই বিক্রি কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র কোকো আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনার খবর সামনে আসায় বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছিল, ভবিষ্যতে কোকোর সরবরাহ বাড়বে। ফলে দাম কমার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী, রফতানিকারক ও বিনিয়োগকারীরা আগেই বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছিল।
দামের নিম্নমুখী চাপ নতুন বছরেও অব্যাহত আছে। পশ্চিম আফ্রিকার প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে সামনের দিনগুলোয় সরবরাহ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে আইভরি কোস্ট এবং ঘানায় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় কৃষকদের মধ্যে ফসলের গুণগত মান নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে।